সব খবর একসাথে

Coming soon

সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

Showing posts with label জাতীয়. Show all posts
Showing posts with label জাতীয়. Show all posts

ইভ্যালির ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে

Evaly


অনলাইন শপিং সাইট ইভ্যালিডটকমডটবিডির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলসহ প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব খুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান, এমডিসহ ইভ্যালির ব্যাংক হিসাব স্থগিতাদেশের মেয়াদ আর বৃদ্ধি করা হয়নি।


ফলে আগের মতই খুলে গেলো সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাব।সুত্র জানায়, ইভ্যালির বিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি এখন তদন্ত করবে গোয়েন্দা সংস্থা।


এর আগে চলতি বছরের ২৭ আগস্ট দেশে কার‌্যরত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে চেয়ারম্যান, এমডিসহ ইভ্যালির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করার পাশপাশি লেনদেনের তথ্য চাওয়া হয়েছিল তিন কর্মদিবসের মধ্যে। চিঠিতে ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামের পাশে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও উল্লেখ করা হয়।


ইভ্যালির বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ ওঠায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এমডির ব্যাংক হিসাব খতিয়ে দেখার জন্য বিএফআইইউ এই উদ্যোগ নিয়েছিল।


অস্বাভাবিক ক্যাশ ব্যাক অফার দিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে দীর্ঘ সময় পরে পণ্য সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

Share:

৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন


৬ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরইমধ্যে কিছুটা সফলতার মুখ দেখেছে চীন। তাদের আবিষ্কার করা ভ্যাকসিনকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে গ্লোব বায়োটিক গেলো ৮ মার্চ থেকে এই টিকা আবিষ্কারে কাজ শুরু করে। সব পর্যায় যথাযথভাবে পেরোতে পারলে আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে টিকাটি বাজারে আনা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন আশা প্রকাশ করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। এই টিকা আবিষ্কারে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ এবং চিফ অপারেটিং অফিসার ড. নাজনীন সুলতানা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ছেন হাজারো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে অদৃশ্য এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশের বিজ্ঞানীরাই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। তবে এখনও কেউ পুরোপুরি সফলতার মুখ দেখেননি। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ৮ মার্চ কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণা কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫,৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। এসব সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আমরা আমাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করেছি, যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করছি।

এই টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছি, যা ইতোমধ্যেই এনসিবিআই স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রকাশিত হয়েছে (accession number: MT676411)। আমাদের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর ল্যাবরেটরি অ্যানিমেল মডেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে যথাযথ এন্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছি।

ইত্তেফাক/এসআই
Share:

সব মানুষেরই করোনার ভ্যাকসিন লাগবে না- অক্সফোর্ড গবেষক


সব মানুষেরই করোনার ভ্যাকসিন লাগবে না- অক্সফোর্ড গবেষক

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুনেত্রা গুপ্তা বলেন, যে কোনও সুস্থ-সবল মানুষ, যার শরীরে আনুষঙ্গিক কোনো রোগ নেই, তার করোনা ভ্যাকসিনের দরকার নেই। যারা বয়স্ক, তাদের প্রয়োজন হতে পারে ভ্যাকসিনের। এছাড়া সাধারণ জ্বরের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দরকারই নেই করোনাকে।

করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে সুনেত্রা আরো বলেন, আমি মনে করি করোনায় মৃত্যুর হার অন্য ইনফ্লুয়েঞ্জার থেকে কম। আর প্রতিষেধক তৈরিও সহজ হবে। গরম কাল শেষ হওয়ার আগেই, আমার ধারণা, প্রতিষেধক যে কাজ করছে, তার যথেষ্ট প্রমাণ হাতে আসবে ।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য শতাধিক ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে পুরো বিশ্বজুড়ে। এ পর্যন্ত ১২টি ভ্যাকসিনের ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গবেষক জানালেন করোনার ভ্যাকসিন সব মানুষের প্রয়োজন হবে না।

সুনেত্রার মতে যখন ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবে, তখন তা কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল বা অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু সবার নেওয়ার দরকার নেই। অন্য রোগের মতো করোনাও একদিন নিজে থেকেই কেটে যাবে বলে দাবি করেন সুনেত্রা।
লকডাউন করোনা প্রতিরোধের স্থায়ী সমাধান না উল্লেখ করে অক্সফোর্ডের গবেষক সুনেত্রা জানান, যেসব দেশগুলো লকডাউন করে করোনা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিল, সে সব দেশে আবার করোনা বড় আকারে দেখা দিয়েছে।

Share:

১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার



কেউ বিশ্বাসও করতে চাইবে না যে প্রায় ৫০ ফুট পানির নিচে ডুবন্ত লঞ্চ থেকে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বুড়ীগঙ্গায় দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চে। ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসে; ঠিক তখনই ওই ব্যক্তি নিজ চেষ্টায় লঞ্চের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন। বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। তিনি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সজল বেপারীর ছেলে। সুমন পেশায় ফল ব্যাবসায়ী। তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান। চোখের ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করেন।

নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, তারা যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিকে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে তিনি চোখের ইশারায় কথার জবাব দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা এবং অক্সিজেন লেভেল নিচে নেমে গেছে।

তবে এভাবে লঞ্চের ভিতর বেৎচে থাকা নতুন নয়। এর আগে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় দুই ব্যক্তি এবং নারায়ণগঞ্জে একটি ডুবন্ত বলগেট থেকে এক ব্যক্তিকে জীবন্ত উদ্ধার করা হয়েছিল।

পানির নিচে তলিয়ে গেলেও এ ব্যক্তি কীভাবে বেঁচে গেলেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যেখানে আটকা পড়িছিলেন সেখানে হয়তো কিছুটা বাতাস ছিল। যার মাধ্যমে সুমন শ্বাস নিতে পেরেছিলেন। যখন টিউবের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় লঞ্চটি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন লঞ্চটি সামান্য ভেসে ওঠার পর ওই ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসেন এবং উদ্ধার কর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নৌকায় তোলেন।
Share:

খুব শীঘ্রই করোনা শেষ হচ্ছে না


করোনা শেষ হওয়ার ধারেকাছেও নেই

বার্তা সংস্থা এএফপি আজ মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বজুড়ে করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার সংখ্যা এক কোটি পার হয়ে গেছে। কয়েকটি দেশ আবার নতুন করে লকডাউন পদক্ষেপ নেওয়ায় অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকায় করোনার সংক্রমণ বিস্তারে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হচ্ছে, এ মহামারি শেষ হওয়ার ধারেকাছেও নেই। গতকাল সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে সতর্ক করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, ‘আমরা সবাই এর সমাপ্তি চাই। আমরা সবাই আমাদের জীবন নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। কিন্তু কঠিন বাস্তবতা হচ্ছে, এটা শেষ হওয়ার ধারেকাছেও নেই। কিছু দেশ যদিও কিছুটা উন্নতি করেছে, তবু বিশ্বজুড়ে মহামারিটি দ্রুতগতি পেয়েছে।’

তেদরোস বলেন, কমপক্ষে ছয় মাস আগে এটি চীনে উৎপত্তি হয়, যেখানে বিশ্ব সংস্থা সংস্থা পরের সপ্তাহে এর উৎপত্তিস্থলে গবেষক দল পাঠায়।

কোভিড-১৯ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এখনো ছড়াচ্ছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ১ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে আর সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা ২৫ লাখ পার হয়েছে।

ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল বলেন, এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম হবে। এ থেকে উত্তরণের বিষয়টি মহামারি ঠেকাতে সরকারি প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ–পশ্চিম অঙ্গরাজ্যগুলোয় তুলনামূলকভাবে আগেভাগে লকডাউন তুলে দেওয়ায় ভাইরাস সংক্রমণ বাড়ছে। তবে নিউইয়র্কের অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। অনেক অঙ্গরাজ্যে আবার নতুন করে রেস্তোরাঁ, বার ও সৈকতে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাস্ক পরে দৃষ্টান্ত তৈরির চাপে পড়েছেন।
Share:

দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৬৪, শনাক্ত ৩৬৮২


দেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ৬৪, শনাক্ত ৩৬৮২

মঙ্গলবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে জানানো হয়, দেশের মোট ৬৮টি পরীক্ষাগারের ৬৬টির তথ্য অনুসারে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৮ হাজার ৮৬৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৮ হাজার ৪২৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪০৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলো। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৬৮২ জন। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জন। সেই সঙ্গে আরও ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হলো ১ হাজার ৮৪৭ জনের।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৮৪৪ জন।সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৫৯ হাজার ৬২৪ জন।

বরাবরের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫২ জন পুরুষ ও ১২ জন মহিলা এবং ৩১ জন ঢাকা বিভাগের ও বাকিরা অন্যান্য বিভাগের। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হলো ১ হাজার ৮৪৭ জনের। একই সময়ে নতুন করে আরও ৩ হাজার ৬৮২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত হলেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮৩ জন।
Share:

খালেদা জিয়া কি লন্ডন যাচ্ছেন চিকিৎসার জন্য

খালেদা জিয়া কি লন্ডন যাচ্ছেন চিকিৎসার জন্য











বিএনপিসূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া এ আদেশের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করবেন। এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের বেশ কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খালেদা জিয়ার হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর স্থায়ী জামিনের জন্য আইনজীবীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে খালেদা জিয়ার আইনজীবী বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বেগম জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাবেন কিনা সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। তবে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছে। করোনার কারণে ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি। তাঁর সম্পূর্ণ চিকিৎসা হয়নি। প্রয়োজনবোধে আবারও সরকার মানবিক কারণে তাঁর মুক্তির সময়সীমা বাড়াতে পারে

তবে এর জন্য আবেদন করতে হবে। সেটা পরিবার করতে পারে। ’
এদিকে বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, আপাতত বাসায় থেকেই তাঁর লন্ডনে থাকা পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমানের পরামর্শে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এটাই চলবে। তা ছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের সিনিয়র চিকিৎসকের একটি দল বেগম জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর রাখছেন। বেগম জিয়ার সেজ বোন সেলিমা ইসলাম গতকাল বিকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কেউ কেউ গুজব ছড়াচ্ছে খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন। এমন কোনো তথ্য আমাদের জানা নেই। তা ছাড়া ঢাকা-লন্ডন দুই জায়গায় প্রাণঘাতী করোনা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। এ মুহূর্তে বিমানবন্দরে যাওয়াই যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে এ ধরনের চিন্তাভাবনা তো মাথায় আসছে না। ’

সূত্র জানান, কয়েকদিন আগে বেগম খালেদা জিয়ার এক ঘনিষ্ঠজন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়। একপর্যায়ে চিকিৎসার বিষয়টি আলোচনায় এলে ঘনিষ্ঠ ওই নেতা জানতে চান, ‘আপনার যে শারীরিক অবস্থা তাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে কিছু ভাবছেন কিনা। ’ জবাবে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে এবং বিশ্বের যে পরিস্থিতি তাতে এ মুহূর্তে যাওয়া ঠিক হবে না। ’ ওই নেতা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আপাতত চেয়ারপারসন বিদেশ যাচ্ছেন না, তা তাঁর মনোভাব দেখেই বোঝা গেছে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বেগম জিয়া কোথায় যাবেন? লন্ডন, সেখানেও তো দ্বিতীয় ধাপে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গণমাধ্যমে কিছু গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমার জানা মতে বেগম জিয়ার এ নিয়ে কোনো চিন্তাভাবনাই নেই। ’ ৭৪-ঊর্ধ্ব বেগম খালেদা জিয়া আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের নানা সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর হাত ও পায়ের গিরায় গিরায় ব্যথাও আছে। মুক্তির পর এখনো খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়নি। করোনার কারণেই তা সম্ভব হচ্ছে না। খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দলীয় চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি টিম রয়েছে। তাঁদের এক-দুজন নিয়মিত তাঁর শারীরিক অবস্থার ফলোআপ করছেন। এ ছাড়া পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান নিয়মিত তাঁর চিকিৎসার তদারকি করছেন। করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নতুন করে চিকিৎসা শুরু করবেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে ২৫ মার্চ থেকে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ আছে। এ সময়ের মধ্যে কারও আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। গণমাধ্যমে খবর আসে- সম্প্রতি খালেদা জিয়া এবং তাঁর গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম ব্রিটিশ ভিসা নিয়েছেন। বিষয়টি ‘সত্য’ নয় বলে জানা গেছে।
উন্নত চিকিৎসায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। বেগম জিয়ার পারিবারিক ও দলের সূত্র বলছেন, আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না তিনি। তা ছাড়া শর্তসাপেক্ষে মুক্তি নিয়ে তিনি বিদেশ যেতে চান না। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে উচ্চ আদালতে আবারও জামিন চাইবেন বিএনপিপ্রধান।
সেখানে জামিন পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার চিন্তাভাবনা করবেন।
অবশ্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল সন্ধ্যায় বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বেগম জিয়াকে যে দুই শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে তার দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ’ টানা ২৫ মাস কারাবন্দী থাকার পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে ছয় মাসের জন্য জামিনে মুক্তি পান সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর জামিনের মেয়াদ শেষ হবে। মানবিক কারণ ও বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। শর্তে বলা হয়- বেগম জিয়া তাঁর ঢাকার বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন ও বিদেশে যেতে পারবেন না। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্তের কথা সরকার জানায়।


Share:

পুড়ে গেছে সব ঘর

আগুন লাগার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা পর গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আগুন লাগার খবর শুনে কাছাকাছি জেলার অনেকে আজ শনিবার ভোর থেকে এলাকায় এসেছে। তারা এখন তাদের ঘর খোঁজার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেখানে এখন শুধু নষ্ট হয়ে যাওয়া টিন পড়ে আছে। তার মধ্যেই সেখানে তারা নিজেদের অবশিষ্ট জিনিসপত্র খুঁজছে। কিন্তু পাচ্ছে না কিছুই। ভয়াবহ আগুনে সেখানে বেঁচে যাওয়ার মতো কিছু নেই। নরসিংদীর মনোহরদী থেকে এসেছেন সুমাইয়া (২৫)। বলেন, ঈদের ছুটিতে স্বামী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। তিনি গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাঁর স্বামী একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। বস্তির সাত নম্বর রোডের নয় নম্বর গলিতে তাঁর ঘর ছিল। আগুন লাগার খবর রাতে শুনেই স্বামীকে নিয়ে ভোরে এসে পৌঁছেছেন। পৌঁছেই ঘরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু যাবেন কোথায়? কোথাও ঘর বলে কিছু নেই। সব সমান হয়ে গেছে। তিনি ঈদের আগে কাপড়চোপড়সহ যেসব জিনিস সঙ্গে নিয়ে গেছেন, তা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন কোথায় থাকবেন, তা জানেন না। তাঁদের স্কুলে থাকতে দেওয়া হবে বলে শুনেছেন। কিন্তু এখনো কেউ কোথাও যায়নি। এখনো সবাই বস্তির আশপাশেই আহাজারি করছে। বস্তির বাসিন্দা শামীম হাসান বলেন, ‘আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। সকাল থেকে ঘর খোঁজার চেষ্টা করেছি। ঈদে বউ আর বাচ্চা জামালপুরে বাড়ি গেছে। আগুন লাগার কথা শুনে দৌড়ে বেরিয়ে এসেছি। কিছু সঙ্গে আনতে পারিনি।’ বস্তির পাশেই দুই নম্বর রোডের বাসিন্দা দিলদার আহমেদ বলেন, আগুন দেখে তাঁরা ভয় পেয়েছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। বস্তির পাশাপাশি মসজিদসহ আশপাশের চারটি বাড়িতে ওই আগুন ছড়াতে দেখেন তিনি। সরেজমিনে দেখা যায়, বস্তির পাশে একটি বাড়ি ও মসজিদ আগুনে বেশি পুড়ে গেছে। স্থানীয় অনেক লোক বলছেন, মিরপুর ৭ নম্বরের বস্তিটি অবৈধ। এখানে বেশির ভাগ বাড়ি টিন ও কাঠের। একেকটি বাড়ি টিন দিয়েই তিন-চারতলা করা হয়েছে। গা ঘেঁষাঘেঁষি করে তৈরি করা এসব ঘরের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়েছে। বস্তির আশপাশের বাড়িগুলোতেও আগুন নিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার বলেন, বস্তির পাশেই তাঁদের বাসা। তাঁরা আগুন ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে ছিলেন। দ্রুত বাড়ি ছেড়ে সবাই বাইরে চলে আসেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় তাঁরা রক্ষা পেয়েছেন। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট কাজ করেছে। র‍্যাব, পুলিশ, ওয়াসা ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
Share:

ছাত্রলীগের প্রতি শেখ হাসিনার ক্ষোভ

ছবিঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা(সংগৃহিত) 

সোমবার রাতে গণভবনে দলের নেতৃবন্দের সাথে এক বৈঠকে দলের এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়া ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং দীর্ঘ ১ বছরেও কমিটি করতে না পারায় ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একপর্যায়ে বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার বিষয়ও তিনি আলোচনা করেন।



পরে বিগত কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেনের  সঙ্গে আলোচনা করে তাদের থেকে তালিকা নিয়ে এবং ক্লিন ইমেজ ধারী ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে কমিটি ঘোষণার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, বি এম মোজাম্মেল, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মির্জা আজম, এস এম কামাল হোসেন এবং আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাছিম।
Share:

ডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান জানান, শর্ট সার্কিট থেকেই এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে

ছবিঃডা. মোহাম্মদ এনামুর রহমান(সংগৃহিত)

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্যোগ নিয়ে করণীয় নির্ধারণ এবং দুর্যোগ মোকাবেলার পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এফ আর টাওয়ারের ঘটনায় দেখা গেছে, আটতলায় শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। আট, নয় ও ১০ তলা পর্যন্ত আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধোঁয়ার কারণে ১১ ও ১২ তলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চকবাজারের চুড়িহাট্টা, বনানী এফ আর টাওয়ার, গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আজকের সভায় আলোচনা হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া এসব ঘটনায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়ে প্রতিনিধিরা মতামত দিয়েছেন। অগ্নিপ্রতিরোধে প্রত্যেকটি ভবনের অনুমোদন দেয়ার আগে ফায়ার ফাইটিং ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দিয়েছেন। পানি সরবরাহে বেশি পরিমাণে ওয়াটার হাইড্রেন্ট নির্মাণের জন্য ওয়াসার প্রতিনিধিকে বলা হয়েছে।’

গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ের এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২8 জন। আহত হন ১৩০ জন ।

এ ঘটনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি গত ৭ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
Share:

ধর্ষন বা যৌন হয়রানির জবানবন্দি গ্রহন মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা করার সুপারিশ; সুপ্রিমকোর্ট

ছবিঃ সুপ্রিমকোর্ট বাংলাদেশ  

সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন নারী ম্যাজিস্ট্রেট।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ দায়িত্ব অর্পণ করবেন একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে।
প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেনের স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনে ওয়াকিবহাল ব্যক্তির জবানবন্দি উক্ত আইনের ২২ ধারা অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করা হয়।’
‘অপরাধের তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে লিপিবদ্ধকৃত উক্ত জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বর্তমানে বেশকিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারী বা শিশুদের জবানবন্দি পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। একজন পুরুষ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নারী বা শিশু ভিক্টিম ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিতে সংকোচবোধ করে। ফলে এরূপ নির্যাতনের শিকার শিশু বা নারী ঘটনার প্রকৃত বিবরণ দিতে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করে।’
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা আবশ্যক। এতে নারী ও শিশু ভিক্টিমরা সহজে ও নিঃসঙ্কোচে তাদের উপর নির্যাতনের বর্ণনা দিতে পারবে।’
‘এমতাস্থায়, সংঘটিত অপরাধের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব একজন নারী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অর্পনের জন্য চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণকে নির্দেশিত হয়ে বিশেষভাবে অনুরোধ করা গেল।’

তবে সংশ্লিষ্ট জেলায় বা মহানগরীতে নারী ম্যাজিস্ট্রেট কর্মরত না থাকলে অন্য কোনো যোগ্য ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত দায়িত্ব অর্পণ করা যেতে পারে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়।
এই সার্কুলারের নির্দেশনাবলী অনুসরণে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা দেখা দিলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের নজরে আনার জন্যও বলা হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ আইনের ২২ (১) ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন সংঘটিত কোনো অপরাধের তদন্তকারী কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা তদন্তকারী অন্য কোনো ব্যক্তি কিংবা অকুস্থলে কোন আসামিকে ধৃত করার সময় কোন পুলিশ কর্মকর্তা যদি মনে করেন যে, ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকেফহাল বা ঘটনাটি নিজ চক্ষে দেখেছেন এমন কোন ব্যক্তির জবানবন্দি অপরাধের ত্বরিত বিচারের স্বার্থে কোন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অবিলম্বে লিপিবদ্ধ করা প্রয়োজন, তা হলে তিনি কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য লিখিতভাবে বা অন্য কোনোভাবে অনুরোধ করতে পারবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থল বা অন্য কোন যথাযথ স্থানে উক্ত ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করবেন এবং উক্তরূপে গৃহীত জবানবন্দি তদন্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সামিল করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করার নিমিত্ত তদন্তকারী কর্মকর্তার বা ব্যক্তির নিকট সরাসরি প্রেরণ করবেন৷
(৩) যদি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধের জন্য অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তির বিচার কোনো ট্রাইব্যুনালে শুরু হয় এবং দেখা যায় যে, উপ-ধারা (২) এর অধীন জবানবন্দি প্রদানকারী ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন, কিন্তু তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন বা তিনি সাক্ষ্য দিতে অক্ষম বা তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয় বা তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার চেষ্টা এইরূপ বিলম্ব, ব্যয় বা অসুবিধার ব্যাপার হবে যা পরিস্থিতি অনুসারে কাম্য হবে না, তা হলে ট্রাইব্যুনাল উক্ত জবানবন্দি মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করতে পারবে।

তবে শর্ত থাকে যে, শুধুমাত্র উক্ত সাক্ষীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি প্রদান করতে পারবে না।
Share:

পহেলা বৈশাখ এর আমেজে মেতেছে দেশ


স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪২৬। নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার উৎসবে মেতেছে পুরো দেশ। দেশজুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা।

বরাবরের মতো এবারও বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছে ছায়ানট। রোববার ভোর সোয়া ছয়টার দিকে রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ছায়ানটের আয়োজনে শামিল হতে ভোরেই রমনার বটমূলে নানা শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষের সমাগম ঘটে। তাদের পরনে ছিল রঙিন পোশাক। চোখে-মুখে আনন্দ-উচ্ছ্বাস।

ছায়ানটের এই আয়োজনে নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে রমনা উদ্যান স্পন্দিত হয়ে ওঠে। ছায়ানটের বর্ষবরণের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অনাচারের বিরুদ্ধে জাগ্রত হোক শুভবোধ’।

কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হয় ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠান। তল্লাশির পর সবাইকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে মোহিত হয়ে থাকেন আগত দর্শক–শ্রোতা।

সকাল সাড়ে নয়টার আগেই বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। ঐতিহ্য অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের অন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ।

‘এ বৃহৎ লজ্জারাশি চরণ-আঘাতে/চূর্ণ করি দূর করো। মঙ্গলপ্রভাতে/মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে/উদার আলোক-মাঝে উন্মুক্ত বাতাসে’-নৈবেদ্য কাব্যগ্রন্থের ৪৮ নম্বর কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবে সব বাধা পেরিয়ে অনুপ্রেরণা খুঁজেছিলেন। আর রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণায় সময়কে ধারণ করে প্রেরণার সন্ধান করা হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ‘মস্তক তুলিতে দাও অনন্ত আকাশে’।

আজকের শোভাযাত্রায় ছিল মূল আটটি শিল্পকাঠামো। সবই চেনাজানা। বাঘের মুখ থেকে কাঁটা তোলার চিরায়ত গল্পটি উপস্থাপিত হয়েছে বাঘ ও বকের অনুষঙ্গে। মঙ্গলের বার্তা প্যাঁচা। সমৃদ্ধির কথা বলেছে ছাগল আর সিংহের সমন্বয়ের বিশেষ মোটিফ। লোকজ ঐতিহ্যের চিত্র মেলে ধরেছে গাজির পটের গাছ। এ ছাড়া অনুষঙ্গের মধ্যে ছিল দুই মাথা ঘোড়া, দুই পাখি, কাঠঠোকরা। ছিল পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় সওয়ার মানুষ।

চারুকলা থেকে বের হয়ে শাহবাগ মোড় হয়ে শিশুপার্কের সামনে দিয়ে ঘুরে আবার টিএসসি হয়ে পুনরায় শাহবাগে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা শোভাযাত্রা।

চারুকলা থেকে এই শোভাযাত্রার প্রচলন হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। ১৯৯৬ সাল থেকে চারুকলার এই আনন্দ শোভাযাত্রা ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামকরণ হয়। ২০১৬ সালে আয়োজনটি ইউনেসকোর অপরিমেয় বিশ্ব সংস্কৃতি হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
Share:

অবশেষে হুমায়ুন কবীর সরকারের লাশ উদ্ধার


সাভার তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ন কবির সরকার। এর ভাসমান লাশ উদ্ধার সকাল ৮ ঘটিকার দিকে।
 উদ্ধার  ফায়ার সার্ভিস।

Share:

অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে



রোহিঙ্গা শিবিরে চলছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। একের পর এক সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি হচ্ছে। পরস্পর বিরোধী গ্রুপগুলো এখন মুখোমুখি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শিবিরগুলোর সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


খুনোখুনি, অপহরণ, গুম, লুটপাটসহ নানা জঘন্য অপরাধজনক ঘটনা লেগেই রয়েছে। গত এক বছরে শুধু টেকনাফ ও উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোয় লাশ পড়েছে ৩০টি। নিজেরা নিজেদের মধ্যেই রক্তাক্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় এত লাশ।

তবে আশঙ্কাজনক খবর হচ্ছে, খোদ রোহিঙ্গা নিধনকারী বলে পরিচিত প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার সরকারও গোপনে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গ্রুপ সৃষ্টিতে ইন্ধন দিচ্ছে। এ খবর সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ভাবিয়ে তুলেছে।
গত মাসের এক রাতে উখিয়ার কুতুপালং ই-২ শিবিরে  রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের একটি বড় হামলা নস্যাৎ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিবিরের কয়েকটি মসজিদের মাইকের ঘোষণায় দ্রুত ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছুটে যাওয়ায় বড় ধরনের হামলার ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে জানা যায়, বর্তমানে শিবিরগুলোতে আল ইয়াকিন নামের একটি সশস্ত্র রোহিঙ্গা গ্রুপ বেশ সক্রিয় রয়েছে।


আল ইয়াকিন নামের সংগঠনটির বেশির ভাগ  রোহিঙ্গা আগে আরএসও নামক সংগঠনে ছিল। আল ইয়াকিন সংগঠনকে রোহিঙ্গাদের অনেকেই আরসা হিসেবেও বলে থাকে। সংগঠনটিতে রয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা তরুণ ও যুবক। সাধারণ রোহিঙ্গাদের কাছে আল ইয়াকিন বা আরসা নামের সশস্ত্র সংগঠনটি একটি বড় ধরনের আতঙ্কের নাম। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের কাছে আরেক ত্রাস হিসেবে পরিচিত হচ্ছে ‘ডাকাত বাহিনী’।

ডাকাত বাহিনীটি আবার এক নামে ‘নবী হোসেন বাহিনী’ নামেও পরিচিতি  পেয়েছে। প্রায় প্রতিটি শিবিরেই রয়েছে রোহিঙ্গা ডাকাত নবী হোসেন বাহিনীর তৎপরতা। মালয়েশিয়া থেকে ফিরে আসা রোহিঙ্গা নবী হোসেন, ইউনুস, মৌলভী আইউবসহ আরও বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গার নেতৃত্বে থাকা বাহিনীটির প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে অস্ত্রশস্ত্র। এই বাহিনীর সদস্যরা রাতে এমনকি দিনেও ডাকাতি, ছিনতাইসহ খুনখারাবিতে জড়িত। গত ৩ এপ্রিল এই নবী হোসেন গ্রেফতার হয়। নবী হোসেনকে গ্রেফতার করে উখিয়া থানা পুলিশ। তবে তাকে ছাড়িয়ে নিতে নানাভাবে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছে তার গডফাদার নসরুল্লাহ।
নির্যাতনের মুখে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা নিরীহ  রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ বহুমুখী সমস্যার মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও। তবে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে গোপনে সক্রিয় ‘সন্ত্রাসী চক্র’ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সন্ত্রাসী রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে নানা ধরনের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেরাই খুনোখুনি করছে। বিগত এক মাসে লাশ পড়েছে ৩০টি। কয়েকটি ঘটনা এরই মধ্যে সমালোচিত হচ্ছে। মো. খালেদ নামে এক রোহিঙ্গা গত মাসে ফেসবুকে এক ভিডিওতে হুমকি দিয়েছে, ‘রোহিঙ্গাদের কোনো ক্ষতি করলে, জোর করে দেশে ফেরত পাঠালে বাংলাদেশ সরকারের সব দফতর এক রাতেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে। ’ সে প্রধানমন্ত্রীকেও হুমকি দিয়ে বলেছে, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর অন্যায্য কোনো আচরণ হলে ছাড়  দেওয়া হবে না। ’ গত ২২ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত নুরুল আলম (৩০)। টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরের আনসার ক্যাম্পে হামলা, অস্ত্র লুট ও কমান্ডার হত্যার মূল হোতাও ছিল এই নুরুল। সে না থাকলেও তার বাহিনীর দাপট মোটেও কমেনি। তারা পরের দিনই এই হত্যার বদলা হিসেবে রোহিঙ্গা পল্লী চিকিৎসক মো. হামিদকে খুন করে। এ ঘটনার মাত্র তিন দিন পর নয়াপাড়া ক্যাম্পে মোহাম্মদ জয়নাল (২২) নামে আরও একজনকে হত্যা করেছে একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। জয়নাল ছিল এই ক্যাম্পের নিরাপত্তা কর্মী। পুলিশের  সোর্স সন্দেহে তাকেও হত্যা করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

টেকনাফে নয়াপাড়া নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক আবদুস সালাম জানান, ক্যাম্পের এইচ ব্লকে আবদুল হাকিমের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তরা জয়নালকে ধরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা চিহ্নিত ডাকাত নুরুলের লোকজন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, নয়াপাড়া ক্যাম্পের পেছনের পাহাড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপ আস্তানা গেড়েছে। দিনে পাহাড়ে আর রাতে ক্যাম্পে চষে বেড়ায় তারা। আবদুল হাকিম ও মো. হাসান এই দুই গ্রুপের নেতা। খুন, ধর্ষণ, ইয়াবা কারবার, মানব পাচার, অপহরণ- এমন কোনো অপরাধ  নেই যা তারা করছে না। গত মাসে তাদের হাতে খুন হয়েছেন ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মোহাম্মদ ইলিয়াছ। এর আগে একই ক্যাম্পে মোহাম্মদ ইয়াসের নামে এক রোহিঙ্গা তরুণকে গুলি করে মারা হয়।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলায় জার্মানির দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় একদল  রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে অর্থ ও মূল্যবান মালপত্র ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান,  রোহিঙ্গাদের জনপ্রিয় নেতা আরিফ উল্লাহ প্রত্যাবাসনের পক্ষে থাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অপরাধ দিন দিন বাড়ছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া   রোহিঙ্গাদের একটি অংশকে প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে মিয়ানমার সেনাবাহিনী গোপনে কাজ করছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে একটি দালাল গ্রুপ তৈরি করে দিয়েছে তারা। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা গোপনে এই কাজে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, মিয়ানমারের অর্থে চালিত রোহিঙ্গাদের এই সন্ত্রাসী চক্রটি প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। কেউ মিয়ানমারে ফিরতে চাইলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজনকে তারা হত্যাও করেছে। এমনকি রোহিঙ্গাদের ভাষানচরে না যাওয়ার জন্যও উসকানি দিচ্ছে তারা। কক্সবাজার পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ ইকবাল  হোসেন বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের আচার-আচরণে ততই পরিবর্তন আসছে। তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এসব ঝুঁকি মাথায় রেখেই দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
Share:

বিএনপি নেতারা নুসরাতের বাড়িতে



পরীক্ষাকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে নিহত ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসারছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির কবর জিয়ারত ও তার পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

শনিবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রাফির বাড়িতে যান। 

বিএনপির প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন- দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শাকিল, নির্বাহী সদস্য আবদুল লতিফ জনি, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায়, নির্বাহী কমিটিরসহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তাহের, সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন মিস্টার প্রমুখ।

এ সময় মওদুদ আহমেদ বলেন, সরকার ব্যস্ত বিরোধী দল দমন পীড়নে, নুসরাত হত্যা প্রমাণ করে যে দেশে আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে।


মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এ ঘটনাটি দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে বিচার হওয়া উচিত। এটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সমগ্র নারী জাতির প্রতি অবমাননা হবে।

এসময় নুসরাতের বাবা মাওলানা একে এম মুসা মানিক বড় ভাই নোমানকে শান্ত্বনা দেন বিএনপি নেতারা। পরে নুসরাতের কবর জেয়ারত করেন তারা।

এসময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, সরকার বিরোধী দলকে দমন-পীড়নে ব্যস্ত। কিন্তু দেশের মানুষের ভালো কিছু করেছে না তারা। মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা প্রমাণ করে যে দেশে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে। মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।
Share:

অধ্যক্ষ কে বলীয়ান করছে ‘চক্রে’র শক্তি

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, আর্থিক দুর্নীতি এবং নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলা মামলায় তিনি তিন দফা কারাভোগ করেন। কিন্তু কেউ টুঁ শব্দটি করতে পারতেন না তাঁর বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী একটি বলয় তৈরি করে মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ শক্তভাবে নিজের হাতে রাখেন অধ্যক্ষ। আর এই চক্রে রয়েছেন ১০ থেকে ১২ জন। দুই দিনের অনুসন্ধানে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।


সরেজমিনে কথা বলে জানা গেছে, আলোচিত চক্রের মধ্যে নিহত নুসরাত জাহান রাফির ভাইয়ের মামলায় আসামি হন পাঁচজন। তাঁরা হলেন আফছার উদ্দিন, মাকসুদ আলম, আবদুল কাদের, নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শুধু আফছার উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করতে পেরেছে। বাকি সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছেন।



স্থানীয় লোকজন জানান, মাকসুদ আলম সোনাগাজী পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। তিনি মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। অধ্যক্ষ সিরাজকে সব সময় সহায়তা দেন তিনি। গত ২৭ মার্চ অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচিতে নামলে তিনি অধ্যক্ষের অনুগত লোকদের নিয়ে বাধা দেন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। ফলে এ ঘটনায় সোনাগাজী সদরে আর কোনো কর্মসূচি পালিত হয়নি।



আর নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন দুজনই মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন। অধ্যক্ষের যেকোনো অপকর্মের দোসর তাঁরা। নুসরাতকে ২০১৭ সালে একবার চুন নিক্ষেপ করেন নুর উদ্দিন।



তাঁরা কেউই এখন এলাকায় নেই। বন্ধ রয়েছে মুঠোফোন। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



সোনাগাজী পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, মাদ্রাসার দোকানপাট ভাড়াসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ টাকা আয় হয়। আয়ের একটি অংশ অধ্যক্ষ তাঁর অনুগত লোকজনের জন্য খরচ করেন। এঁদের সংখ্যা ১০ থেকে ১২। তাঁদের মধ্যে নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই ছাত্রীর ওপর হামলাকারী বোরকা পরা চারজনের পরিচয় মিলবে।



যেভাবে চাপা পড়ে ৩ অক্টোবরের ঘটনা



মাদ্রাসার শিক্ষক ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরের ৩ অক্টোবর অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা আলিম শ্রেণির আরেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেন। প্রতিকার চেয়ে মেয়েটির বাবা মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। চিঠির অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং যে তিনজন শিক্ষক অধ্যক্ষের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, তাঁদের কারণ দর্শানোর চিঠি দেন অধ্যক্ষ। ওই তিন শিক্ষক হলেন আরবি বিভাগের প্রভাষক আবুল কাশেম এবং জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বেলায়েত হোসেন ও হাসান আহমেদ। অধ্যক্ষের রোষানলে পড়ে তিনজনই কোণঠাসা হয়ে যান।আবুল কাশেম গতকাল বুধবার মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে প্রথম আলোকে বলেন, ‘অধ্যক্ষকে কোনো বিষয়ে পরামর্শ দিলে কিংবা শোধরাতে বললে রোষানলে পড়তে হয়। গত বছরের অক্টোবরে এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। মাদ্রাসার ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে অধ্যক্ষের কাছে তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকদের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর চিঠি দেন, যার মধ্যে আমিও আছি।’


আবুল কাশেম আরও বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা বাইরের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। এ জন্য কেউ তাঁর অপকর্মের কথা বলতে সাহস পান না। এর ফলে অক্টোবরের শ্লীলতাহানির ঘটনাটিও চাপা পড়ে যায়। এর কারণেই তিনি আরেকটি মেয়ের সঙ্গে এমন আচরণ করার সাহস পেয়েছেন।
জানতে চাইলে ইউএনও মো. সোহেল পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, অধ্যক্ষের চরিত্র নিয়ে অনেক অভিযোগ উঠে আসছে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা হয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ পুলিশ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেবে।
যা দেখেছিলেন নৈশপ্রহরী
৬ এপ্রিল অগ্নিদগ্ধ ছাত্রী নুসরাতকে উদ্ধার করতে আসা দুজনের একজন হলেন মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফা। পুলিশের একজন সদস্যকে নিয়ে ওই মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন মোস্তফা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা পরপর দুটি শ্লীলতাহানির ঘটনায় ধরা পড়েছেন। এর আগেও নিজ দপ্তরে তাঁকে একাধিকবার মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি। দেখে ফেলায় তিনি আমাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেন। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “পাথরের সঙ্গে কপাল ঠুকলে মাথা ফাটবে, নাকি পাথর ফাটবে?” আমি বলেছিলাম মাথাই ফাটবে।’

মোস্তফা আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষের দপ্তর ছিল নিচতলায়। মেয়েদের সঙ্গে অশালীন আচরণের ঘটনা একাধিকবার আমার চোখে পড়েছে। তখন “সাপ ঢুকেছে, নিচতলার দপ্তর নিরাপদ নয়”বলে পাশের ভবনের দ্বিতীয় তলায় তিনি দপ্তর স্থানান্তর করেন।’
আগের মামলা ও কারাদণ্ড
ফেনীতে উম্মুল কুরা ডেভেলপার্স নামের একটি কথিত সমবায় প্রতিষ্ঠান আছে। অধ্যক্ষ সিরাজ এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে জমা পাওয়া টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। এ ঘটনায় চেক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার টাকার মামলা হয়। এ বিষয়ে আদালতে দায়ের হওয়া মামলায় (সিআর ৯৪/১৮ নম্বর) আদালত গত বছরের ১০ জুলাই তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসা তহবিলের ৪৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৪ সালে নাশকতা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় সিরাজ উদ দৌলা ২০১৭ সালে কারাভোগ করেন।
Share:

নুসরাতকে বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি: ডা. সামন্ত লাল

ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
নুসরাতের মৃত্যুর পর বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. সামন্ত লাল বলেন, কোনো রোগী আগুনে ১৫ শতাংশ পুড়ে গেলে আমরা ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহিৃত করি। সেক্ষেত্রে নুসরাতের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে।আমাদের করার কিছুই ছিল না। নুসরাতকে বাঁচাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।ত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। আগুনে হত্যাচেষ্টার পর নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেকে নিয়ে আসা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন ওই ছাত্রীর মা। ২৭ মার্চ পরীক্ষার আধাঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন অধ্যক্ষ। পরে পরিবারের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন তিনি। সেই মামলা তুলে না নেয়ায় অধ্যক্ষের লোকজন ওই ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়েছে।
Share:

শূন্যরেখার রোহিঙ্গা তাড়াতে কূটকৌশল বিজিপির

তুমব্রু রাইট শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়া সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দিতে একের পর এক অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে মিয়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিপি)। এর আগে রোহিঙ্গাদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখালেও কয়েক দিন ধরে বিজিপি দিনের আলোতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন সেতুর নিচ দিয়ে লোহার নেট তৈরি করছে। আর রাতের বেলায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিতে ঘনঘন ফাঁকা গুলি বর্ষণ করছে।
বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি পতাকা বৈঠকের জন্য বিজিপিকে বারবার চিঠি দিলেও তাতে ওরা সাড়া দিচ্ছে না। মাঝখানে সোমবার নির্মাণ বন্ধ রাখলেও মঙ্গলবার থেকে বিজিপি ফের নেট তৈরির কাজ শুরু করে। এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দেয়া ছাড়াও সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা বলছেন, বিজিপি এখান থেকে আমাদের তাড়াতে নানা চেষ্টা করছে। সবশেষ ওরা অস্ত্র উঁচিয়ে হুমকি ও রাতে সীমান্তে অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশ ঘটাচ্ছে।
স্থানীয় যুবলীগ নেতা ছৈয়দুল বশর জানান, কয়েক দিন আগে তুমব্রু রাইটের উত্তরে ব্রিজের নিচে নেট দিয়ে বেড়া দিতে শুরু করে বিজিপি। বিজিবির তৎপরতায় সোমবার কাজ বন্ধ রাখলেও মঙ্গলবার থেকে ফের কাজ শুরু করে। এই নেট তৈরি করা হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানিতে শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা ভেসে যাবে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়রা। ব্রিজের নিচে লোহার রড দিয়ে নেট তৈরিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানান, ব্রিজটি মিয়ানমারের ভেতরে হওয়ায় সুসম্পর্ক বজায় রেখেই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ফের নেট তৈরির কাজ শুরু করেছে। আমাদের পক্ষ থেকে এ নিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে বিজিপিকে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর সেনা নির্যাতনে পালিয়ে এসে শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার রোহিঙ্গা। তখন থেকেই তাদের রেডক্রস মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে।
Share:

১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ আসন অর্থাৎ ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দেড় লাখ ইভিএম কেনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামীতে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার হবে। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনের সব কটিতেই এ মেশিনে ভোট নেয়া হবে।
জানা গেছে, সভায় জাতীয় নির্বাচনের জন্য নতুন আইন করার প্রস্তাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। কমিশন সভায় তিনি বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এ অনেক সংশোধন ও পরিবর্তন এসেছে। কাজেই এখন নতুন আইন তৈরি করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশ দেন।
বুধবার কমিশন সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব এসব কথা জানান। তিনি বলেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫০ ভাগ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তিনি বলেন, ২৩ এপ্রিল থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হবে। স্থগিত উপজেলাগুলোতে আগামী ৫ মে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, সিইসি একটি নতুন আইন করার কথা বলেছেন। আরপিও বাংলায় তরজমা হবে নাকি জাতীয় নির্বাচনের জন্য নতুন আইন হবে সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কমিশন সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে।
জানা গেছে, বুধবার বিকালে সিইসির সভাপতিত্বে কমিশনের ৪৮তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরপিও বাংলায় অনুবাদ করে আইনে রূপান্তরসহ তিনটি এজেন্ডা ছিল। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত দুটি এজেন্ডার ওপর আলোচনার পর তা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
জানা গেছে, সভায় জাতীয় নির্বাচনের জন্য নতুন আইন করার প্রস্তাব দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা। এ কারণে কমিশন সভায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর বাংলায় অনুবাদ সংক্রান্ত এজেন্ডা থাকলেও তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আগামী সভায় আলোচনা হবে। যদিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ রহিত করে নতুন আইন করার বিষয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। প্রসঙ্গত সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আরপিওতে সংশোধনী আনা হয়েছিল।
ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ প্রণীত হয়। বিভিন্ন নির্বাচনের আগে এটি সংশোধন হয়েছে তবে নতুন শিরোনামে কোনো আইন হয়নি। এ অধ্যাদেশের সঙ্গে ওই সময়ের ঐতিহ্য মিশে আছে। এ কারণে সবার পড়ার সুবিধার্থে এ অধ্যাদেশকে বাংলায় রূপান্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছিল কমিশন সভায়। তারা আরও জানান, ড. শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন কমিশনও নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ এতে আপত্তি জানায়।
সভায় অংশ নিয়েছে এমন কয়েক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভায় আরপিও নিয়ে আলোচনা উঠলে এ প্রসঙ্গে সিইসি কথা বলেন। তিনি বলেন, আরপিওতে অনেকবার সংশোধন করা হয়েছে। অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটিকে নতুন আইন করা যেতে পারে। আমরা নতুন আইনের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠাব। যা করার সরকার করবে। ইসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অনেক আইনে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭১’ কথাগুলো লেখা রয়েছে। নতুন আইন করতে হলে ওইসব আইনেও সংশোধনী আনার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া কমিশন নতুন আইনের প্রস্তাব করলেও তা সংসদে পাস হতে হবে; যা সরকারের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় কমিশনের পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হবে। কমিশন সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ বাংলায় অনুবাদসহ ৮টি বিধিমালায় সংশোধনীর জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ করা হয়। কনসালটেন্ট আরপিওর বাংলায় অনুবাদ করে ইসিতে জমা দেন। ওই অনুবাদ আইনে রূপান্তর করার জন্য কমিশন সভায় তোলা হয়েছিল। আরও দেখা গেছে, বর্তমানে জাতীয় সংসদ, উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধান রয়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিধিমালা ছিল না। বুধবার কমিশন সভায় এ সংক্রান্ত বিধিমালা অনুমোদন করা হল। বিধিমালা দুটি হল- পৌরসভা নির্বাচন (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিধিমালা, ২০১৯ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) বিধিমালা, ২০১৯।
জাতীয় নির্বাচনে ৫০ শতাংশ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটের পরিকল্পনা : কমিশন সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব বলেন, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পুরোটা না হলেও ফিফটি পারসেন্ট আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। দেড় লাখ ইভিএম কেনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি এখনও সিওর না, এটা আমাদের পরিকল্পনায় আছে। এর জন্য অবশ্যই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার দরকার আছে।
তিনি বলেন, যেহেতু আমরা একটা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ৩ হাজার ৮২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা দেড় লাখ ইভিএম সংগ্রহ করেছি। এগুলো তো সংগ্রহ করে রাখার জন্য না। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগেই এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহেই এ প্রকল্পটা গ্রহণ করা হয়। সরকার বলেছে, সব জায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন চায় এটা ব্যবহার করা হোক।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার প্রসঙ্গে সচিব বলেন, এখন থেকে সব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে হবে। তবে যেসব উপজেলা পরিষদ বা ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াতের সমস্যা আছে সেখানে ব্যবহার করা হবে না। যেগুলোতে বিদ্যুৎ আছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো সেসব উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ বেছে বেছে ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। ইসির কেনা ট্যাব নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপে চারটি উপজেলায় ট্যাব ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে দুটি উপজেলার ফলাফল আমরা দ্রুত পেয়েছি। দুটি উপজেলায় সমস্যা হয়েছে। সে কারণে চতুর্থ ধাপের ছয়টি উপজেলায় এটি ব্যবহার করা হয়নি। ট্যাবের সফটওয়্যার আরও অপটিমাইজেশন করার প্রয়োজন আছে। এগুলো ঠিক করার জন্য যে কোম্পানির কাছ থেকে এটি কিনেছি, তাদের অনুরোধ করেছি। তারা এটি ঠিক করে দেবে। তিনি বলেন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এখন থেকে যেখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আমরা বিটিআরসিকে অনুরোধ করব ওইসব এলাকায় যেন ইন্টারনেটের গতিটা বাড়িয়ে দেয়া হয়, যোগ করেন সচিব।
৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যে মাঠে নামছে ইসি : সচিব জানান, এবার ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে ইসি। এ বছর ২৩ এপ্রিল থেকে সারা দেশে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। চলবে ১৩ মে পর্যন্ত। ২৫ মে থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম।
তিনি বলেন, এ বছর আমাদের টার্গেট হল ৮০ লাখ নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করা। ২০০৪ সালের পহেলা জানুয়ারি বা তার আগে যাদের জন্ম এ রকম নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে তাদের নাম ২০২০ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যাদের বয়স এখনও ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি, তাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ২৫ মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। কোনো কারণে তথ্য সংগ্রহের সময় কেউ যদি বাদ পড়েন, তবে তিনি নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও তার তথ্য দিয়ে নিবন্ধিত হতে পারবেন।
ঢাকাসহ অন্যান্য মহানগরীর জন্য কোনো বাড়তি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সচিব বলেন, এ কারণেই ভোটার তালিকা হালনাগাদে ট্যাবটা ব্যবহার করতে চাই। কারণ এতে লোকেশনটা দেখা যায়। ঢাকা শহরে বাড়ি বাড়ি যাওয়া ডিফিকাল্ট। কারণ মানুষ খুব একটা সহযোগিতা করতে চায় না। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে আমরা এ বিষয়ে অনেক বেশি সহযোগিতা পাই। সচিব জানান, নির্বাচনে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ সাড়ে ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকে যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের পরিবারকে এ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এ ছাড়া ভোটের কাজে নিয়োজিত কেউ স্থায়ী পঙ্গু হলে সর্বোচ্চ চার লাখ এবং অঙ্গহানি বা গুরুতর আহত হলে দুই লাখ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
Share:

নির্বাক মা, সুবিচার চাইলেন বাবা

নির্বাক মা শিরিন আক্তার। নিথর হয়ে পড়ে আছেন হাসপাতালের বিছানায়। আগুনে পুড়িয়ে মারা হলো তাঁর নয়নের মনি নুসরাত জাহান রাফিকে। বাবা আবু মুসা কিছুক্ষণ পরপর হাউমাউ করে কেঁদে উঠছিলেন। বলছিলেন, ‘আহা! আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। ওরা আমার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়ি মারল।’ছোট ভাই রায়হানের বুকফাটা কান্না। মুখে কোনো কথা নেই তাঁর। এমন দৃশ্য বুধবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে।
সুবিচার চাইলেন বাবা আবু মুসা। ছবি: আসাদুজ্জামান।সুবিচার চাইলেন বাবা আবু মুসা। ছবি: আসাদুজ্জামান।তখন রাত ১১টা। ঠিক দেড় ঘণ্টা আগে(সাড়ে ৯ টা) মারা গেছেন নুসরাত জাহান। একমাত্র মেয়ের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর অচেতন মা শিরিন। বার্ন ইউনিটের দুই তলা থেকে স্ট্রেচারে করে শিরিনকে নেওয়া হলো ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে। বাবা মুসা তখনো বার্ন ইউনিটের দুই তলায়। অনেকেই তাঁকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। মুসা শুধু বলছিলেন, আমার মেয়ের জীবন ওরা কেড়ে নিল। মেয়ে নুসরাতের জন্য দোয়া চাচ্ছিলেন তিনি। তখন নুসরাতের খালাতো বোন ফরিদা বলছিলেন, আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের ভাই রায়হান হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। ছেলের কান্না দেখে বাবা মুসাও কাঁদতে থাকেন। আর বলছিলেন, ‘আমি বিচার চাই। ন্যায় বিচার চাই।’ মুসা তখন বার্ন ইউনিটের লিফট দিয়ে নিচে নামছিলেন। লিফটের ভেতরে মেয়ের নাম বলে কেঁদে ওঠেন। বলেন, ‘আমি সুবিচার চাই। আইনে যে শাস্তি আছে, সেই শাস্তি চাই।’ তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নুসরাতের খালাতো বোন ফরিদা বলে ওঠেন, ‘চাওয়া পাওয়া একটাই, সিরাজ উদ দৌলার ফাঁসি চাই। আর কিছু চাই না।’
সোনাগাজীর সেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীতসোনাগাজীর সেই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীতরাত সাড়ে ১১টার পর গাড়িতে করে মুসা ঢাকা মেডিকেল হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে যান। যাওয়ার আগে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়ে বাঁচতে চেয়েছিল। আমি সুবিচার চাই।’ তখন নুসরাতের মাকে দেখা গেল অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। নুসরাতের খালাতো বোন শান্তাসহ আরও দুজন তাঁকে পানি খাওয়ানোর চেষ্টা করছিলেন। তখনো অচেতন তিনি। নুসরাতের খালাতো বোন শান্তা প্রথম আলোকে বলেন, ‘নুসরাতের মৃত্যু সংবাদ শোনার পর থেকে কোনো কথা বলছেন না খালা শিরিন আক্তার। ডাকে সাড়াও দিচ্ছেন না।’

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা। ছাত্রীর স্বজনদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজন নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। নুসরাতের পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, সেদিন পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে নুসরাতকে ডেকে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।। গত শনিবার গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নুসরাতের ছোট ভাই। ছবি: হাসান রাজাকান্নায় ভেঙ্গে পড়েন নুসরাতের ছোট ভাই। ছবি: হাসান রাজাবুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন ঢামেক বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিকিৎসক অধ্যাপক রায়হানা আওয়াল।
এর আগে নুসরাতকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায় বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকেরা। নুসরাতের ফুসফুসকে সক্রিয় করতে গতকাল মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে অস্ত্রোপচার করা হ‌য়।
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন জানান, মৃত্যুর কারণ রক্ত ও ফুসফু‌সের মারাত্মক সংক্রমণ থে‌কে কা‌র্ডিও রেসপিরেটরি ফেইলিয়র (হৃদ্‌যন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ) হয়। এতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
Share:

Recent Posts