বাস্ক অঞ্চলের সান সেবাস্তিয়ানে জন্ম নেওয়া এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার ভ্যালেন্সিয়া, ভায়াদোলিদ, মায়োর্কার মতো ক্লাবে খেললেও বারবার ফিরে গেছেন বিলবাওর টানে। আর সাধারণত নিজের অঞ্চল ছাড়া অন্য কোনো অঞ্চলের খেলোয়াড় না খেলানো বিলবাও-ও বারবার নিজের সন্তানকে বরণ করে নিয়েছে উদারহস্তে। ভিন্ন ভিন্ন সময়ে তিনবার বিলবাওয়ের জার্সি গায়ে জড়ানো আদুরিজ বিলবাওয়ের মূল দলে অভিষিক্ত হন ২০০২ সালে, এই বার্সার বিপক্ষেই। ম্যাচটা ২-০ গোলে হেরে যায় বিলবাও। আদুরিজের মধ্যে দুর্দান্ত প্রতিভা দেখেছিলেন তৎকালীন বিলবাও কোচ, পরে বায়ার্ন ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগজয়ী ইয়ুপ হেইঙ্কেস। কিন্তু মৌসুম শেষে চাকরি হারান হেইঙ্কেস, আদুরিজও দলে নিজের জায়গা হারান। ধারে খেলতে চলে যান বার্গোসে। বার্গোস, ভায়াদোলিদ ঘুরে আবার বিলবাওয়ে আসেন আদুরিজ। দুই মৌসুম শেষে আবার চলে যান মায়োর্কা, সেখান থেকে ভ্যালেন্সিয়া ঘুরে আবার ফিরে আসেন বিলবাওতে।
ফার্নান্দো তোরেস, ডেভিড ভিয়া, ফার্নান্দো ইয়োরেন্তে, রবার্তো সোলদাদো, ডিয়েগো কস্তা, আলভারো মোরাতা, আলভারো নেগ্রেদোদের ভিড়ে কখনই স্পেনের মূল স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি আদুরিজ। একটি ম্যাচের শেষ পনেরো মিনিট খেলার ‘সৌভাগ্য’ হয়েছিল যদিও, ইউরো ২০১২–এর বাছাইপর্বে লিথুনিয়ার বিপক্ষে কোচ ভিসেন্তে দেল বস্কের অধীনে।
এককালে যুবদলে জাভি আলোনসো, মিকেল আরতেতার মতো তারকাদের সঙ্গে খেলা আদুরিজের সেসব সঙ্গীরা এখন কোচ হিসেবে ডাগআউট মাতালেও আদুরিজ এখনো চিরতরুণ। বয়স হলেও পায়ে যে বিন্দুমাত্র মরচে পড়েনি, তার প্রমাণ তো কালকের ম্যাচটাই! বার্সেলোনার বর্তমান কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে আগে বিলবাওয়ের কোচ ছিলেন, তখন তাঁর প্রিয় শিষ্য ছিলেন আদুরিজ। প্রিয় শিষ্য যে তাঁর মুখের হাসি কেড়ে নেবেন, সেটা ভালভার্দে গতকাল বেশ ভালোই বুঝেছিলেন, ‘বাতাসে ভেসে আসা বল নিয়ন্ত্রণে এনে গোল করার ক্ষেত্রে আদুরিজ অনেক দক্ষ। আমি যখন দেখলাম ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসটায় বাইসাইকেল কিক দেওয়ার জন্য আদুরিজ প্রস্তুতি নিচ্ছে, আমি তখনই বুঝে গিয়েছিলাম ও গোল করেই ছাড়বে।’
২০১৫ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালের কথা মনে আছে? প্রতিদিন আপনি বার্সাকে চার গোল হজম করতে দেখবেন না, সেবার সেই অসাধ্য সাধন করেছিল অ্যাথলেটিক বিলবাও। আর এই অসাধ্য সাধিত হয়েছিল এই আদুরিজের কল্যাণেই। প্রথম লেগে মেসিদের দর্শক বানিয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি, যা ছিল বার্সার বিপক্ষে এক দশক পর কোনো খেলোয়াড়ের হ্যাটট্রিকের উদাহরণ। দ্বিতীয় লেগে ১-১ গোলে ড্র করা বার্সেলোনা বলতে গেলে এই আদুরিজের জন্যই সেবার সুপার কাপ জেতেনি। কাল এই ‘বুড়ো’ আদুরিজের ঝলক আরও একবার দেখেছে বার্সেলোনা। তাঁর শেষ মুহূর্তের গোলে লিগের প্রথম ম্যাচে বার্সেলোনাকে হারিয়েছে বিলবাও।
সর্বাধিক পঠিত সংবাদ
-
অনলাইন শপিং সাইট ইভ্যালিডটকমডটবিডির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেলসহ প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক হিসাব খুলে দ...
-
ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি, আর্থিক দুর্নীতি এবং নাশকত...
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন...
Showing posts with label খেলা. Show all posts
Showing posts with label খেলা. Show all posts
তাসকিন কে রাখা হয়নি স্কোয়াডে, কারন জানালেন মিনহাজুল
![]() |
| ছবিঃ মিনহাজুল(সংগৃহিত) |
তাসকিন যখন রূপগঞ্জের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে বোলিং করছিলেন, ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানের রুমের বসে সেটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেছিলেন মিনহাজুল। প্রধান নির্বাচকের কথায় মনে হচ্ছিল, তাসকিনের চেষ্টা আসলে বৃথা। মানুষ আশায় বাঁচে। তাসকিনও আশা নিয়ে ছিলেন। সেটিও হাওয়ায় মিলিয়ে গেল বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হওয়ার পর।
কেন তাসকিনের সুযোগ হয়নি বিশ্বকাপ দলে, সেটি বলতে গিয়ে মিনহাজুলের কণ্ঠে কিছুটা তথ্যবিভ্রাট। বললেন, তাসকিন ২০১৭ সালে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু আসল তথ্যটা হবে—২০১৮। গত বছর মার্চে শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফিতে তাসকিন দেশের হয়ে সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন। তবে এটা ঠিক তিনি সবশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ২০১৭ সালের অক্টোবরে।
প্রিমিয়ার লিগের একটা ম্যাচ খেললেও স্কিলের দিক দিয়ে তাসকিন পুরোপুরি নিজেকে ফিরে পাননি, প্রধান নির্বাচক বলছেন, এটিই আসলে তাঁকে বাদ দেওয়ার মূল যুক্তি , ‘একটা দীর্ঘ বিরতি পড়ে গেছে (আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে)। ওকে যখন নিউজিল্যান্ড সফরে চিন্তা করলাম, আবার চোটে পড়ে গেছে। আমাদের কাছে যে রিপোর্টগুলো আছে ফিজিওর, ও এখনো পুরোপুরি ফিট না। স্কিলের দিক দিয়ে পুরোপুরি ফিট হিসেবে চাচ্ছিলাম ওকে। এখন ওকে নিতে চাচ্ছি না। ঘরোয়া ক্রিকেটে একটা ম্যাচ খেলেছে সে। তবুও তার ফিটনেস সন্তোষজনক নয়।’
তবে একটা সান্ত্বনা তাসকিনের জন্য রেখেছেন নির্বাচকেরা। মিনহাজুল বললেন, ‘আয়ারল্যান্ড সফরে যদি কেউ চোটে পড়ে ওকে বিকল্প হিসেবে ডাকা হবে।’








