সব খবর একসাথে

Coming soon

সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

Showing posts with label নুসরাত প্রসঙ্গ. Show all posts
Showing posts with label নুসরাত প্রসঙ্গ. Show all posts

১২জনের পরিকল্পনায় খুন হয় নুসরাত


বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে হাজির করা হয় আবদুর রহিমকে। সেখানে তিনি দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কামরাঙ্গীর চর এলাকা থেকে আবদুর রহিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিতে বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে ও পরামর্শে নুসরাতকে হত্যার জন্য গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগানো হয়। এ জন্য ২৮ ও ৩০ মার্চ দুই দফা কারাগারে থাকা মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করা হয়। ৪ এপ্রিল সকালে ‘অধ্যক্ষ সাহেব মুক্তি পরিষদের’ সভা করা হয়। রাতে ১২ জনের এক সভায় হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। তাঁর (রহিম) দায়িত্ব পড়ে মাদ্রাসার গেটে। সেখানে নুর উদ্দিন, আবদুল কাদেরও ছিলেন। মাদ্রাসার ছাদে বোরকা পরে ছিলেন শাহাদাত, জোবায়ের ও জাবের। এ ছাড়া ছাদে ছিলেন মণি ও পপি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, আবদুর রহিম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, মামলার দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম এবং মো. আবদুর রহিম ওরফে শরিফসহ তিনজন স্বীকারোক্তিতে একই ধরনের কথা বলেছেন। তাঁদের স্বীকারোক্তি থেকেও মণির নাম উঠে আসে।
নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত দল বুধবার বিকেলে সোনাগাজী মাদ্রাসা ও নুসরাতদের বাড়ি পরিদর্শন করে। প্রধান পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের ডিআইজি মো. রুহুল আমিন তদন্ত দলের নেতৃত্বে দেন।
তদন্ত দলে ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান, মাহমুদা আক্তার, পরিদর্শক মো. সালা উদ্দিন। এ ছাড়া ফেনীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উক্য সিং, সোনাগাজী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) সাইকুল আহমেদ ভূঁইয়া, সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) মো. কামাল হোসেন।
ডিআইজি মো. রুহুল আমিন গণমাধ্যমের কর্মীদের বলেন, পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নির্দেশে তদন্ত দল সোনাগাজীতে এসেই তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, দুই দিন সোনাগাজীতে থেকে নুসরাত হত্যাকাণ্ড ও পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় আর না ঘটে, সে বিষয়ে করণীয় নিয়ে তদন্ত করে ঢাকায় গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত দল নুসরাতের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাঁরা নুসরাতের কবর জিয়ারত করেন।
নুসরাত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সিরাজ উদদৌলার ফাঁসির দাবিতে বুধবারও ফেনী ও সোনাগাজীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষর্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সকালে ফেনী জেলা জজ আদালতের আইনজীবীরা, শহরের ট্রাংক রোডের স্কুল শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। ট্রাংক রোডের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনে যোগ দেন ফেনী-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী। তিনি তাঁর বক্তৃতায় নুসরাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এ ছাড়া দিনভর শহরের শহীদ মিনার চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ পালিত হয়। সোনাগাজী উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জোবেদা নাহার, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন।
বক্তারা বলেন, নুসরাত হত্যাকারী অধ্যক্ষ সিরাজসহ জড়িত অন্যান্য আসামিদের ফাঁসিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ ছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে নুসরাতের নামে পৌরসভা এলাকায় একটি সড়কের নামকরণ করার ঘোষণা দেন পৌর মেয়র।

৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে কেন্দ্রে গেলে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ওই দিন রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এ হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আটজনের মধ্যে ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করেন নুসরাতের মা। ওই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নুসরাত ও তাঁর পরিবারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন অধ্যক্ষের লোকজন। এরপর ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা কারাগারে আছেন।
Share:

নুসরাত হত্যায় জড়িত নারী গ্রেফতার

নুসরাত
ছবিঃ নুসরাত(সংগৃহিত) 

বোরকাধারী কামরুন নাহার মণিকে ফেনী শহর এলাকা থেকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। মণি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী পাঁচজনের একজন, যাঁকে পুলিশ খুঁজছিল। গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি মো. শরীফুল ইসলাম ওরফে শরীফকে ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে গতকাল রাতে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন গত রোববার ঘটনার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। তাঁদের সেই জবানবন্দি থেকে গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিদের নাম উঠে আসে।

মণি ও শরীফকে আজ বুধবার ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শরাফউদ্দিন আহমেদের আদালতে হাজির করা হবে। পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দুজনেরই ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি এখনো চলছে। এ হত্যাকাণ্ডে এযাবৎ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আটজনের মধ্যে সাত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
Share:

সরকার নারীদের রক্ষায় ব্যার্থঃ এইচআরডব্লিউ

ছবিঃ সংগৃহিত
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বলেছেন, ‘যৌন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার কতটা ব্যর্থ তা ফুটে উঠেছে নুসরাত জাহান রাফি হত্যার মাধ্যমে।’

তিনি বলেন, ‘এই হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে কথাটি জোরালো হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে নির্যাতিতরা নিরাপত্তার সঙ্গে যেন আইনগত সমাধান পান সে বিষয়টিও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তাদেরকে প্রতিশোধের শিকার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।’
ছবিঃ সংগৃহিত 


এইচআরডব্লিউ এর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক পরিচালক মীনাক্ষি গাঙ্গুলির এসব বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

ওই বিবৃতিতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার মূল আসামি অধ্যক্ষ সিরাজসহ জড়িতদের বিচার চেয়ে এ ঘটনায় দ্রুত পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে মীনাক্ষি গাঙ্গুলি বলেন,‘ন্যায়বিচার চাওয়াতে সাহসী মেয়ে নুসরাতকে অত্যান্ত বর্বরোচিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

এ ঘটনায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর দায়িত্বহীনতার বিষয়টিতেও নজর দিয়েছে সংস্থাটি।

সংস্থাটি বলছে, গত ২৭ শে মার্চ নুসরাত যখন পুলিশে অভিযোগ করতে যান, তখনকার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাকে বলছেন, ঘটনাটি তেমন বড় কিছু নয়। এর পরপরই অভিযুক্তের সমর্থকরা নুসরাতকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দেয়া নুসরাতের ভাইয়ের বক্তব্য তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

নুসরাতের ভাই বলেছিলেন, ৬ই এপ্রিল হামলার পর নুসরাত তার পরিবারকে বলেছেন, হামলাকারীরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নেয়ার দাবি জানিয়েছে। এতে রাজি না হওয়ায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তারা।

কেন হত্যা করা হয়েছে নুসরাত জাহান রাফিকে? আর হত্যার জন্য আগুনই বা কেন বেছে নেয়া হলো, এই প্রশ্নগুলো তুলে ধরা হয়েছে সংস্থাটি থেকে।

এই হত্যার তদন্তকারী সংস্থা বলছে, দুটি কারণে নুসরাতকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রথমত, শ্লীলতাহানির মামলা করে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করিয়ে নুসরাত আলেম সমাজকে ‘হেয়’ করেছেন। দুই. আসামি শাহাদাত নুসরাতকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু নুসরাত তা গ্রহণ না করায় শাহাদাতও হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পিবিআইপ্রধান বনজ কুমার মজুমদারের তথ্য মতে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাসহ আটজন গ্রেফতার রয়েছেন। বাকি আরও অনেকের নাম উঠে আসতে পারে।

নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পেছনের কারণ হিসাবে তিনি জানিয়েছেন, হত্যার পরিকল্পনাকারীরা ২০১৬ সালে নুসরাতের চোখে চুন মেরেছিল। তখন মেয়েটির হাসপাতালে চিকিৎসা হয়।

এরপর ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। সেসব ঘটনাই স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তারা সামাল দিয়েছিল। এবারও নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার পর পরিস্থিতি মোকাবিলা করে পার পেয়ে যাবেন ভেবেছিলেন নুর উদ্দিন, শাহাদাত ও অধ্যক্ষ সিরাজ।
Share:

নুসরাতের পরিবারের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

ছবিঃ সংগৃহিত 

দুষ্কৃতকারীরা কেউই আইনের হাত থেকে কোনভাবেই রেহাই পাবে না - নুসরাতের পরিবারের সাথে সাক্ষাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অগ্নি সন্ত্রাসের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণকারী ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফির বাবা একেএম মুসা ও মাতা শিরিনা আক্তারসহ দুই ভাই আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

শেখ হাসিনা নুসরাতের পরিবারের প্রতি সান্ত্বনা ও গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা কেউই আইনের হাত থেকে কোনভাবেই রেহাই পাবে না। তিনি আরও বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করে নুসরাত এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তাদের সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
Share:

পিবিআই তদন্ত করবে সোনাগাজীর ওসির

ছবিঃ সংগৃহিত 
সোমবার দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে আবেদন করেন ব্যারিস্টার সুমন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় করা অভিযোগটি পিটিশন মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন।

ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬ ধারাসহ অন্যান্য ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে থানায় যাওয়ার পর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি রেকর্ডের সময় ভিডিও করা এবং পরবর্তীতে তা সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হয়েছে।

এর আগে যৌন হয়রানির অভিযোগ করতে যাওয়ার পর সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসির কক্ষে আরেক দফা হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল নুসরাতকে। ওসি নিয়ম না মেনে জেরা করতে করতেই নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন। মৌখিক অভিযোগ নেয়ার সময় দুজন পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষও বলছেন, আইন না মেনে কারোর ভিডিও করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাবে।

সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার রাফিকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নুসরাত থানায় অভিযোগ করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকেই মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা তুলে না নেওয়ায় নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার আগমুহূর্তে মিথ্যা কথা বলে নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে’ করা মামলাটি গ্রহণ করেছেন আদালত। সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন এ মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্তের জন্য আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
Share:

জামশেদ-মাকছুদকে ৪ লাখ টাকা দেন অধ্যক্ষ তার যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য


সোনাগাজীর সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার একটি সূত্র জানায়, নুসরাত জাহান রাফির ঘটনার আগে আরেকটি মেয়েকে যৌন নির্যাতন করেন অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলা। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে অধ্যক্ষের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ টাকা নিয়েছিলেন মাদ্রাসা কমিটির সদস্য জামশেদ ও কাউন্সিলর মাকছুদ আলম।

ওই সূত্র আরও জানায়, এই দুই ব্যক্তি ছাড়াও নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেরসহ আরও কয়েকজন অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতেন।

এদের মধ্যে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদ আলম, নুর উদ্দিন, শামীমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে নুসরাতের ভাইয়ের করা মামলার আট আসামির মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার পর অধ্যক্ষ সিরাজদ্দৌলার অপকর্মের তথ্য বেড়িয়ে আসছে। যারা এত দিন ভয়ে মুখ খুলতে পারেনি তারা এখন অধ্যক্ষের অপকর্মের তথ্য দিচ্ছেন।
Share:

Recent Posts